এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৯

“যখন তুমি

“যখন তুমি”

সব কিছু ভেঙ্গে যাবার পর
আর কোন চাওয়া নেই নেই কোন বাসনা, নেই কামনা
কোন কিছুই আর টানে না আমায়
শুধু টানে কিছু স্মৃতি
কিছু ফিরে না পাবার সময়;
যখন তুমি সাথে ছিলে!

যখন তুমি পাশে ছিলে কতকিছুই থাকতাম ভুলে!
আমার অবস্থান, তোমার অবস্থান,
আমার চাওয়া, তোমার পাওয়া,
সব ভুলেছিলাম!
মনে হয়নি আমি তুমি ভিন্ন
ভেবেছিলাম আমি তুমি মানে আমরা
নই আমি তুমি মানে আমি!

কিন্তু সব ভুল ছিল ছিল
সব মিথ্যে
আমিও মোহে পড়েছিলাম,
প্রথম ভালবাসার মোহ!
প্রথম নারীর ছোঁয়ার মোহ,
প্রথম বিশ্বাসের মোহ!

যখন তুমি বলতে ভালবাসি;
ভেবেছিলাম তুমি বুঝি কোন স্বর্গের দেবী
ভেবেছিলাম প্রেমের দেবতা নিজেকে!
ভেবেছিলাম আমার নামে পুজো দেবে
কোটি প্রেম-ভক্ত
ভেবেছিলাম আমরাও হব ইতিহাসের সাক্ষ্য!

ভুল, সবই ভুল!
ভালবাসা আর প্রেম
যেমন এক নয়
আমি আর তুমিও এক নই।

অর্বাচীন আদিত্য
kobita:
“যখন তুমি”

নীল ডায়েরি

নীল ডায়েরি

নিষাদ এর সাথে মিতুর যোগাযোগ হয়নি আজ ৪দিন অবশ্য এতেঅবাক না মিতু কারণ নিষাদ মাঝে মাঝে হঠাৎ করেই উদাও হয়ে যায় তখন থাকে হাজার খুঁজেও পাওয়া যাবেনা।।তবেএবার ব্যাপার টা আলাদা কারণ আগে উদাও হওয়া মানে শুধু দেখা না করাকে বুঝাত কিন্তু ফোনে সব সময় কথা হত এবং ওয়াটস এপ,ফেবুতে চ্যাটিং হত তবে এবার সব কিছুই অফ মিতুর সাথে নিষাদ এর শেষ কি কথা হয়েছিল সেটা মনে করার চেষ্টা করছে মিতু

-শোন কিছু দিনের জন্য হাড়িয়ে যাচ্ছি..(নিষাদ)
-তা কোথায় হাড়াচ্ছিস...(মিতু)
-এখনো ভাবিনি তবে হাড়িয়ে যেতে ইচ্ছা করছে।
-হঠাৎ হাড়িয়ে যাওয়ার কারণ জানতে পারি।।
-দেখতে চাই কেউ আমাকে মিস করে কিনা?
-সেজন্য হাড়িয়ে যেতে হয়।।
-মাঝে মাঝে হয় যদি দেখি সে মিস করতে শুরু করেছে তাহলেফিরে আসব।।
-সে যদি মিস না করে।।
-তাহলে হয়ত ফিরে নাও আসতে পারি।।
-এটা আবার কেমন কথা তা কার প্রেমে পরলি রে...
-প্রেমে আমি পরিনি প্রেম আমার উপর পরেছে রে।।
-আহা রে...
এইটাইপ কথা বার্তা হয়েছিল মিতু বিশ্বাস করেনি যে সত্যি সত্যি নিষাদ হাড়িয়ে যাবে।।এখন মিতু নিষাদ এর বাসায় এসেছে দেখতে যে নিষাদ বাসায় লুকিয়ে আছে কিনা যদি লুকিয়ে থাকে তাহলে ঠাশ করে থাপ্পড় দিবে এই ৪দিন মিতুর যে কিভাবে কেটেছে সেটা মিতু ছাড়া কেউ জানেনা বার বার ফোন চ্যাক করেছে যদি কুত্তা টা একবার মেসেজ দেয় সারা রাত ঘুমায়নি যদি গভীর রাতে হঠাৎ নিষাদ ফোন দেয়
আর সে ফোন ধরতে না পারে এই ভয়ে।মিতু ভালই বুঝতে পেরেছে যে নিষাদ এর উপর সে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়েপরেছে।

এখন মিতু নিষাদ এর রুমে বসে আছে এর আগেও মিতু নিষাদ এর বাসায় এসেছে নিষাদ এর আম্মু মিতুকে অনেক পছন্দ করেন। নিষাদ নাকি ৪দিন আগে কোন এক ফ্রেন্ড এর বাসায় গিয়েছে বলেছে ৮দিন থাকবে অবশ্য ফোনে কথা হয় তার ফ্রেন্ডের ফোন থেকে বাসায় ফোন করে।মিতু নিষাদ এর আম্মুকে দিয়ে নিষাদ কে ফোন করিয়ে বলিয়েছে যে তাড়াতাড়ি নিষাদ যেন বাসায় চলে আসে ইমার্জেন্সি প্রয়োজন।।মিতুর হঠাৎ নিষাদের টেবিলের উপর চোখ গেল সেখানে একটা নীল রং এর ডায়েরি দেখতে পেয়ে মিতু
সেটা খুলে পড়তে শুরু করল...
৭নাম্বার পেইজে লেখা..০৪/০৮/১৫
"তকে অনেক ভালবেসে ফেলেছি যদিও তুই আমাকে ভালবাসিস না সেটা ভাল করেই জানি তবুও জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে তুই কি ঘুমাতে যাবার সময় আমার কথা ভেবে ঘুমাতে যাস কিংবা প্রতিদিন সকালে উঠে সবার আগেআমার কথাই তর মনে হয়"

১৮নাম্বার পেইজে লেখা...০৫/০৬/১৬
"তুই নিজেও জানিস না তকে রাগলে অসাধারণ দেখতে লাগে কেন জানি বার বার তর প্রেমে পরতে ইচ্ছে হয় যদিও তুই আমার প্রেমে পরবিনা কারণ মেয়েরা ফাজিল ছেলে পছন্দ করে হাসার জন্য তবে ভালবাসে না।" 

৩৩নাম্বার পেইজে লেখা..০৮/০৯/১৬
ভালবাসি কাউকে বলতে হয়না বুঝে নিতে হয় একটু শেয়ারিং,একটু কেয়ারিং,একটু জগড়া, অনেকটুকু আদর আর স্নেহ নিয়ে ভালবাসা তৈরি হয়।।সো তোমাকে ভালবাসি এটা বলতে পারব না মুখে বা কোন চিঠি লিখে নীল খামেভরে পাঠাতে পারব না কিংবা কোন sms এ লিখে তোমাকে সেন্ড করতে পারবনা তুমি নিজ দায়িত্বে বুঝে নিতে হবে মেয়েদের অনেক সুপারন্যাচারাল পাওয়ার এর মধ্যে ছেলেদের বুঝে ফেলাও একটা পাওয়ার সো তোমাকে সেই পাওয়ার কাজে লাগিয়ে আমার অবস্থা বুঝতে হবে।।যদি না বুঝো তাহলে হাড়িয়ে যাব হাজার খুঁজেও পাবেনা।।

৪৩নাম্বার পেইজে লেখা....২২/১২/১৬
আমি অপেক্ষায় আছি,
তোমার হাতটি ধরার।
আমি অপেক্ষায় আছি,
কোন পূর্ণিমার রাতে তোমার সাথে পথ চলার।
আমি অপেক্ষায় আছি,
কোন এক ভোরের সূর্য উদয় দুজনে একসাথে দেখার।
আমি অপেক্ষায় আছি,
তোমার হাত থেকে একগুচ্ছ নীল গোলাপ পাবার আশায়।।
আমি অপেক্ষায় আছি শুধু অপেক্ষায়।।।।

এর পরে আর লিখা নেই মিতু ডায়েরি বন্ধ করে বসে রইল তার মাথায় কিছুই ঢুকছেনা নিষাদ তাকে ভালবাসে সেটা সে অনেক আগেই বুঝতে পেরেছে বাট এতটা ভালবাসে বুঝতে পারেনি সেও যে নিষাদ কে ভালবেসে ফেলেছে সেটাও ৪দিন-রাতে বুঝে ফেলেছে।।হঠাৎ মিতু উপলব্ধি করল তার চোখ পানিতে ঝাপসা হয়ে আসছে একি সাথে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফোটে উঠেছে যেন আনন্দে তার মন ভেসে যাচ্ছে।
নিষাদ বাসায় ঢুকেই ঠাস্কি খেয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে কারণ মিতু তার সামনে তবে মুখে রাগের কোন চিহ্ন নেই যেন অনেক খুশিতে আছে তবে সেটা প্রকাশ করতে চাচ্ছেনা।।
-বাহিরে চল..(মিতু)
-আচ্ছা চল...(নিষাদ)
মিতু আর নিষাদ বাহিরে এসে দাঁড়িয়েছে হঠাৎ মিতু নিষাদের দিকে হাত বাড়িয়ে বলল নে ধর নিষাদও হাত ধরে বলল

-কি?
-শোন আজ পূর্ণিমা সো আজ আমার হাত ধরে হাটতে হাটতে পূর্ণিমা উপভোগ করব একটু পরেই সন্ধ্যা হয়ে যাবে আকাশে উঠবে রুপার তালার মত চাঁদ যার আলোয় সারা শহর আলোকিত হয়ে যাবে।।আর একটা কথা তর নীল ডায়েরি টা আমি সম্পূর্ণ পড়ে ফেলেছি অবশিষ্ট কিছু থাকলে লিখে ফেলেছিস। এ কথা বলেই মিতু হাসতে লাগল নিষাদও মিতুর দিকে তাকিয়ে রইল যেন পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর হাসি সে দেখছে এই সুন্দর হাসির থেকে পৃথিবীতে আর সুন্দর কিছুই হতে পারেনা।

অতঃপর ভালোবাসা

অতঃপর ভালোবাসা

তুই আমাকে এখনো ভালোবাসিস ?
– না।
– কেন ?
– কেন আবার কি ?
– ভালোবাসিস না কেন ?
– যখন ভালোবেসে ছিলাম তখন তো মূল্য দিলি না।
– তুই তো আমাকে বলিসনী কোন দিন ?
– তোর বোঝা উচিত ছিলো।
– তুই না বললে কেমন করে বুঝবো ???
– কেমন করে বলব ? বলার আগেই তো তুই ওই ছেলেটাকে আমাদের মাঝে নিয়ে আসলি।
– ও আমার জাষ্ট ফেন্ড ছিলো আর কিছু না।
– আমি তো তোর বেষ্ট ফেন্ড ছিলাম। মাএ দুই দিনের একটা ছেলের জন্য তুই আমাকে ভুলে গেলি ?
– আমি তোকে ভুলিনী, তুই আমার কাছ থেকে দূরে চলে গেছিস।
– কেন গেছি তু্ই জানিস না ?
– না।
– জানবি কেমন করে ? আমি তো তোর কেউ ছিলাম না।
– এমন ভাবে বলিস কেন ? তু্ই তো জানিসই আমি একটু কম বুঝ। বললেই পারিস।
– আমি তোর পাশে অন্য কাউকে সহ্য করতে পারি না।
– একবার বললেই পারতি !!
– কেন বলব ? তুই বুঝিতে পারিস না ?
– বুঝলে কি আর তোর থেকে দূরে থাকতাম।
দুজনেই চুপ। কিছুটা সময় নিরবতার পর দিশা বলে উঠল,
– চুপ কেন ?
– এমনিই।
– কাউকে ভালোবাসিস ?
– না।
– ভালোবাসতি ?
– হ্যা।
– সেদিন বলিসনী কেন ?
– বলার সাহস ছিলো না।
– কেন ?
– তোকে হারানোর ভয়ে।
– কেন হারাবি আমায় ?
– তোকে বলার পর যদি তুই “না” বলে দিস। যদি তুই চলে যাস আর আমাদের বন্ধুত্বটা নষ্ট করে দিস।
– তুই কেমন করে ভাবলী “তোকে ছেড়ে আমি চলে যাবো ?”
– তাহলে এই দুই বছর কোথায় ছিলি ?
– ওটা তো……………….!!! থাক পুরানো কথা বাদ দে।
– ok, দিলাম।
আবারো নিরবতা দুজনের মাঝে। প্রকৃতি টাও কেমন যেন ওদের সাথে শান্ত হয়ে গেল । মনে হচ্ছে আকাশেরও বুঝি আজ মন খারাপ। এই বুঝি কান্না শুরু করবে।
– কিছু বলবি ?
– কি বলবো ?
– যা ভাবছিস এখন।
– তুই বলতে পারিস না ?
– না।
– কেন ?
– তুই জানিস না, “মেয়েদের বুক ফাটে তো মুখ ফাটে না”।
– কেন ফাটে না ? তোরা ফাটাতে চাসনা দেখেই ফাটে না।
– হা……..হা……..হা……..হা……..!!!
– তোর হাসিটা এখনো আগের মতোই সুন্দর। (দিশার দিকে তাকিয়ে বিপলু)
– যাক বাবা, আমার হাসির কারণে হলেও তুই একবারের জন্য আমার দিকে তাকালি। এতক্ষণ তো আমার মনে হয়েছিলো আমি কোন রোবটের সাথে কথা বলছি।
– (চুপ)
– আচ্ছা আমি আসি (দিশা উঠতে যাবে ঠিক তখনি দিশার হাত ধরে ফেলল বিপলু)
– বস।
– কেন বসবো ? তুই তো কিছু বলবি না !!!
– বস বলছি।
– বল, কি বলবি ?
– আমার হাতটা একটু শক্ত করে ধরবি ?
– হুম ধরলাম।
– ছোটবেলায় তোকে হরলিক্স খাওয়ানী ?
– কেন ? (বিস্মিত হয়ে)
– তোকে শক্ত করে ধরতে বলসি, স্পর্শ করতে বলিনী।
– ok বাবা, ধরলাম। এবার বল কি বলবি ?
– দিশা, আমি…….
– হুম….!!
– আমি……
– তারপর ?
– তোকে…
– হুম…..!!
– তোকে…
– তোকে কি …..??
– আমি একটু পানি খাবো, একটু পানি দে…। (হতবিহ্বল হয়ে পড়লো বিপলু)
– (হাত ছেড়ে দিয়ে রাগান্বিত হয়ে) যা ওই দোকান থেকে খেয়ে আয়।
– তোর কাছে নেই ?
– না।
বিপলু উঠে পানি খেতে চলে গেল। এমন ভাবে গেল মনে হয় কত বছরের তৃষ্ণাত। অপর দিকে দিশার মনটা খারাপ হয়ে গেল। আজ দুই বছর পর ওদের দেখা অথচ বিপলু ওর মনের কথাটা আজও বলতে পারলো না। আজ থেকে ঠিক তিন বছর আগে এই দিনে দিশার সাথে বিপলুর প্রথম পরিচয় হয়। বন্ধুত্বের কিছুদিন পরেই দিশাকে ভালোবাসতে শুরু করে বিপলু। দিশাও ব্যাপারটা বুঝতে পারে কিন্তু না বুঝার ভান করে থাকে। মেয়েদের এই এক স্বভাব, “বুক ফাটে তো মুখ ফাটে না”। ওই দিকে বিপলু নানা কথা-বার্তায়, চাল-চলনে দিশাকে বুঝাতে চেষ্টা করে যে সে দিশাকে ভালোবাসে। দিশা বুঝেও সবসময় না বুঝার ভান করে থাকতো। কারণ, দিশা সবসময় চাইতো বিপলু দিশাকে সরাসরি প্রপোজ করুক। সব মেয়েরেই এই রকম স্বপ্ন থাকে যে তার ভালোবাসার মানুষ তাকে আগে প্রপোজ করুবে, তার মনের কথাটা বলবে কিন্তু বিপলু সেটা পারছে না শুধুমাএ বন্ধুত্বটা নষ্ট হওয়ার ভয়ে। কোনদিন আর পারেওনী। মাঝে অন্য একটা ছেলের জন্য দুই জনের বন্ধুত্বের ফাটল দেখা দেয়। অতঃপর দীর্ঘ দুই বছর পর আজ আবার তাদের দেখা কিন্তু বিপলু আজও দিশাকে মনের কথা না বলায় দিশার মন খারাপ।
৩০ মিনিট হয়ে গেল বিপলু এখনো আসছে না। দিশা ফোন দিলো কিন্তু বিপলু ফোনটাও ধরছে না। হয়তো বিপলু চলে গেছে, হয়তো বিপলুর আজও বলার সাহস হয়নী এমনটা ভেবে দিশা উঠে দাড়ালো। হঠাৎ পিছন থেকে কে যেন “দিশা” বলে চিৎকার দিয়ে উঠল। দিশা পিছনে ফিরে তাকালো। আরে এতো বিপলু ! ও একটু দূরে হাটুগেড়ে বসে আছে, হাতে এক গুচ্ছ লাল গোলাপ। বিপলু লাল গোলাপ গুলো দিশার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে চিৎকার করে বলে উঠল,
– দিশা……, I……Love……You……..!!!
লেকের পাড়টা যেনো বিপলুর চিৎকারে কেপেঁ উঠল। লেকের পাড়ের উৎসুক মানুষ গুলোর দৃষ্টি এখন শুধু বিপলু আর দিশার দিকে। এমন দৃশ্য হয়তো আজ বিরল তাই কেউ কেউ ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে গেল। অন্য দিকে দিশা অপলক দৃষ্টিতে বিপলুর দিকে তাকিয়ে রইল। যে বিপলু ভালোবাসি কথাটা বলতে তিন বছর সময় নিলো, যে বিপলু মনের কথাটা বলতে গেলে হাত কাপঁতে শুরু করে সেই বিপলু আজ পুরো পৃথিবীর সামনে প্রপোজ করল। এটা ভাবতেই দিশা অবাক হয়ে গেল। দিশা কেমন যেনো নিস্তব্ধ হয়ে গেলো। দিশার বিস্ময় যেনো কাটছে না। বিপলু সত্যি আজ প্রপোজ করল নাকি দিশা স্বপ্ন দেখছে। কেন যেনো আজ নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না দিশা। সব কিছুই যেনো আজ স্বপ্ন মনে হচ্ছে। এই সব কথা ভাবতে ভাবতে দিশার চোখে পানি চলে আসল।
– কিরে আর কতক্ষণ বসে থাকবো ??
বিপলুর কথায় যেনো জ্ঞান ফিরল দিশার। দিশা আস্তে আস্তে বিপলুর দিকে এগিয়ে আসলো। বিপলুর হাত থেকে ফুলের তোড়াটা নিলো। বিপলু উঠে দাড়ালো। দিশা বিপলুর দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে রইল।
কিছুক্ষণ পর_________
– কিরে, কিছু বলবি না ?
– কি বলবো ? (দিশার চোখের পানি)
– তুই কাঁদছিস কেন ?
– মাইর খাবি। এই কথাটা বলেতে এত সময় লাগলো ???
– ওকে, সরি…..।
– কানে ধর।
– কার ? তোর না আমার ?
– তোর, শয়তান। (ধমক দিয়েই বলল দিশা)
বিপলু কানে ধরতে যাবে ঠিক তখনি দিশা “I Love You Too” বলে বিপলুকে জড়িয়ে ধরল। দিশার চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগলো। বিপলু জানে দিশার চোখে আজ কোনো কষ্টের কান্না ছিলো না, যা ছিলো তা ছিলো আনন্দের। আর বিপলুর চোখে-মুখে ছিলো আনন্দের হাসি। গত দুই বছর বিপলু দিশার জন্য অনেক কেঁদেছে, সেই কাঁন্না আজ হাসিতে রুপান্তরিত হয়েছে।
মরাল : সত্যিকারের ভালোবাসায় যতই ফাটল ধরুক না কেন, একদিন না একদিন মিলন ঠিকই হয়______

বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৯

একটি ছোট কষ্টের কাহিনী

একটি ছোট কষ্টের কাহিনী একটি ছেলে যার ছিল অনেক স্বপ্ন। অনেকের সাথে বন্ধুত্ব করবে সে। এই কারনে তার ফেসবুক এ আইডি খোলা। তার নাম ছিল রাফা। সে স্কুল-এ খুব চুপচাপ থাকতো। স্কুলে ছিল তার অনেক বন্ধু। কিন্তু সবাই ছিল ছেলে। কোন মেয়ের সাথে তার বন্ধুত্ব হয়নি। ফেসবুক আইডি খুলেছে সে ২০০৯ সালে। তখন সে প্রতিদিন এ সাইবার ক্যাফ-এ গিয়ে ফেসবুক ব্যভার করতো। সে কখনো ভাবে নি যে তার আজ এই পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হবে। তখন তার ফেসবুক আইডি তে ও কোন মেয়ে বন্ধু ছিল না। ঈদের ছুটিতে বাড়ি যায় সে। জানতে পারে যে তার মামাতো ভাইয়ের ফেসবুক আইডি আছে। ভাইকে তার ফ্রেন্ড লিস্ট এ অ্যাড করল সে। তার ভাই তাকে পরিচয় করিয়ে দিলো তার অনেক বন্ধু-বান্ধব এর সাথে। সাথে তার জিএফ এর সাথেও। রাফা তার ভাই এর জিএফ কে ভাবি বলে ডাকতো FB তে । সামনাসামনি তাদের এখন দেখা হয় নি। রাফা অনেক দুস্টামি করতো তার ভাবির সাথে। হঠাৎ একদিন তার ভাবি তাকে বলল তোমার জিএফ নাই। সে সরাসরি উত্তর দিলো না। ওর ভাবি একজন এর প্রফাইল লিঙ্ক দিয়ে বলল তোমার মত আমার এই বান্ধবীটিও একা। রাফা তাকে ফ্রেন্ড রেকুয়েস্ট পাঠায়। মেয়েটি এক্সেপ্ট করে। তার নাম তানি। তাদের মধ্যে অনেক দিন কথা হয়। তানি কে তার খুব ভালো লেগে যায়। কিন্তু সাহস হয়নি কখনো বলার। এমন করে অনেক দিন কেটে গেল। রাফার SSC পরীক্ষা এসে পরে। পরীক্ষার আগে একদিন সাহস করে তানি কে তার ভাল লাগার কথা বলে। তানি ৩ দিন এর সময় নেয়। এর পর এর কাহিনী আমি আগামি কাল লিখব…………… ৩দিন সময় নিয়ে সে আর আসে না… ৩দিন এর জায়গায় ১৫দিন পার হয়ে যায়। কিন্তু তানি এখনও অনলাইন এ আসে নি। আমি আমার বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি। তানি কে পাব না বলে ধরে নিলাম। তখন এত কষ্ট লাগে নি। ৩সপ্তাহ পর ………… একদিন দেখি তানি অনলাইন এ। আমি তাকে কিছু বললাম না। সে আমাকে বলল আমি তোমার প্রোপজাল আমি এক্সেপ্ট করলাম। আমি তখন ও এত খুসি হয় নি। আমি তানি কে জিজ্ঞাসা করলাম, এত দিন কোথায় ছিলে?? তানিঃ হ্যাঁ বলব নাকি না বলব তা চিন্তা করতে করতে আমার জ্বর এসে গিয়েছিল। তাই আস্তে পারি নি। এর পর থেকে অনেক কথা হত আমাদের। SSC পরীক্ষা শেস হওয়ার পর একটি মোবাইল কিনলাম। তানি আর আমি এবার মোবাইলে কথা বলেই দিন কাঁটিয়ে দিতাম। এভাবে ৫ টা মাস পার হয়ে গেল…… তানির ফেমিলি থেকে চট্টগ্রাম আসছে সবাই। আমাদের দেখা করার সুযোগ হয়ে এলো। তানি তারিখ ফিক্সড করে জানায়। আমদের সুন্দর ভাবে দেখা ও হয়। আমার জীবনের এইদিনটি অতি গুরুত্তপূর্ন। আমি অন্য দিনের কথা ভুল্লেও এইদিনের কথা ভুলবো না। জীবনে এই প্রথমবার সরাসরি কোন সমবয়সী মেয়ে এর সাথে কথা বলছি তারপর আবার আমি তাকে ভালবাসি। তখন জানি না আমি কোন দেশে হারিয়ে গিয়েছিলাম। একে অন্যের হাত ধরে অনেক্ষন বসে ছিলাম। অনেক একে অন্যের চোখের দিকে তাকিয়ে আছি। তারপর দিন সে আবার ঢাকায় চলে গেল। আমার খুব দুঃখ হচ্ছিল যখন তানি চলে যাচ্ছিলো। মোবাইলে কথা বলতাম। তারপরও কেমন জানি লাগতো আমার। শুধু দেখা করতে ইচ্ছা করত। হঠাৎ একদিন তানি এর কোন খোঁজখবর নেই। কল ধরে না। কল ও করে না। আমি তো খুব চিন্তিত। ৮ দিন পর কল এলো তার নাম্বার থেকে। কিন্তু কন্ঠটা তার না। কান্না কান্না কন্ঠে সে মেয়েটি বলল… ভাইয়া, আপু আর নেই। আমি প্রথমে বুঝলাম না কি বলতে চাইছে। জিজ্ঞাসা করলাম সে কে? উত্তর আসলো সে তানির ছোট ভোন। তানি কোথায় জিজ্ঞাস করতেই উত্তর দিল আপু আর পৃথিবীতে নেই। এ কথা বলেই কেঁদে দিলো। আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। আমি ঢাকায় যাওয়ার অনেক চেষ্টা করলাম কিন্তু পারলাম না। আবার অই নাম্বার এ কল দিলাম। জিজ্ঞাসা করলাম কিভাবে মারা গেল। বলল ৯ দিন আগে এক্সিডেন্ট হয়েছিল। গতকাল কথাও বলেছে। কিন্তু আজ সকাল ৭টা থেকে আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেল। অবস্থা খারাপ এর পথে যেতে থাকে এবং ১১ টার দিকে মারা যায়। আমার জীবনে এত দুঃখ কখনও পাইনি। অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলাম। হঠাৎ একদিন তানির নাম্বার থেকে ১টা মেসেজ আসলো, যা পাঠিয়েছে তার ছোট ভোন। লেখা ছিল “ ভাইয়া, ওই দিন আমি আপনাকে সব কথা বলতে পারি নাই। আপু আমার কাছে আপনার জন্য একটা মেসেজ দিয়ে গিয়েছিল। মেসেজ টা হল “ আমার মনে হয় চলে যেতে হবে। তুমি আমার জন্য কাদবে না। আমার মত অথবা আমার থেকে আর ভাল কাও কে পেলে জীবন সাথী করে নিও। আমার কথা মনে করে কখনও কাদবে না, মন খারাপ করবে না। যদি বেঁচে থাকি তাহলে দেখা হবে ইনশাল্লাহ।“” এই মেসেজ পরে আমার আরও কান্না পেল। কষ্ট নিয়ে কাটিয়ে দিলাম এতটা দিন। তবে দুঃখ টা আরও বেড়ে গেল গত মাসের ২৮ তারিখ। আমি আমার বন্ধু আশিক, আসিফ, সজল এর সাথে অনেক্ষন দুষ্টামি, আড্ডা করে বাসায় ফিরলাম। কিন্তু ঘরে ডুকতেই কারন্ট টা চলে গেল। আমি আবার আড্ডা দেওয়ার স্থান এ গিয়ে বসলাম। ঠিক তখনি আমি দেখতে পেলাম আমার সামনে একটি গাড়িতে বসে আছে। আমি আমাকে বিশ্বাস করতে পারলাম না। তখনি আমি আমার মোবাইল থেকে তানি এর নাম্বার এ মিস কল দিলাম। দেখলাম ওই মেয়ে টা তার মোবাইলটি হাত এ নিলো। আমি আবার মিসকল দিলাম। আবার সেই মেয়েটি মোবাইল হাত এ নিলো। আমি পুরো সিউওর হয়ে গেলাম এটা তানি। আমি অনেক্ষন তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম আর কাঁদছিলাম। হঠাৎ বুঝলাম তানিও আমাকে দেখেছে। সে গাড়ি থেকে বের হয়ে এলো। আমি মনে করেছিলাম ও আমার দিকে আসবে। কিন্তু না সে তার গাড়িতে ঢেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো আর আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। তানি কে দেখে তখন আমার খুব ঘেন্যা হচ্ছিলো। আমার সাথে অনেক খারাপ কাজ করেছে সে। আমি ঐ স্থান থেকে সাথে সাথে চলে এলাম… চলে আসার সময় আমি পেছন ফিরে তাকালাম। দেখলাম সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে……………………………